সন্ধ্যাবেলা শহরটা তখন বিরক্ত মুখ করে বসে আছে। বাতাসে ধুলো, বাসের ভেতরে মানুষের ঘাম আর জীবনের হিসাব। ৩২ নম্বর বাসটা এমনভাবে কাঁপছে, মনে হয় বাস না, জীবনের বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার এক কোণে দাঁড়িয়ে আমাদের নয়ন। এক হাতে রড, আরেক হাতে মোবাইল। পকেটে ভাড়া আছে, মনে স্বপ্ন ।
নয়ন হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে লিখল,
“হাই, কোথায় আছো?”
ওপাশ থেকে উত্তর এল চকচকে ভাষায়,
“ আমি এখন বাবার বিএমডব্লিউতে চড়ে ক্লাবে যাচ্ছি। ড্রাইভার নামিয়ে দিয়ে যাবে। ক্লাব শেষে মলে শপিং, তারপর তোমায় ফোন দেব। তুমি কোথায়?”
নয়ন উত্তর দেওয়ার আগে একবার বাসের জানালা দিয়ে তাকাল। বাইরে জীবন দৌড়াচ্ছে, ভেতরে জীবন ঝুলে আছে। তারপর সে খুব নিরীহভাবে লিখল,
“আমি ৩২ নম্বর বাসে।”
একটু থেমে আরেক লাইন,
“তোমার সিটের ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে আছি।”
শেষে এমন এক লাইন, যেটা কোনো প্রেমের কবিতায় থাকে না,
“টিকিট করো না। তোমার টিকিটটাও আমি কেটে নিয়েছি।”
এইখানেই গল্পটা শেষ না, শুরু।
কারণ বিএমডব্লিউ আমাদের দূরে নিয়ে যায়, আর বাস আমাদের মানুষ চিনিয়ে দেয়।
বাসে কেউ কারও নাম জানে না, তবু পাশে দাঁড়ায়।
আর যে নিজের টিকিটের সঙ্গে আরেকজনের টিকিটও কেটে নেয়,
সে শুধু যাত্রী না, সে দায়িত্ববান মানুষ।
শিক্ষাটা খুব সাধারণ, জীবনে সবাই ক্লাবে যায় না,
কিন্তু সবাইকে একদিন না একদিন বাসেই উঠতে হয়।
তখন প্রেম নয়, বড় কথা হয় কে পাশে দাঁড়িয়ে ভাড়া দেয়।

0 মন্তব্যসমূহ