এক বিকেলের কথা। হালকা রোদ, পাখির ডাক, রাস্তার ধারে নিমগাছটা পাতাঝরা শেষে নতুন সবুজে ভরে উঠছে। এমন সময় মন ভার করে রহমান হাজির হলেন উকিল আহমেদ সাহেবের কাছে ।
রহমান:উকিল সাহেব, বিপদে পড়েছি। আমার পাশের বাড়ির কুদ্দুসের কাছে আমি ৩০ হাজার টাকা পাই। মাস তিনেক আগে ধার নিয়েছিল, এখন দেখলেই রাস্তা বদলায়।
উকিল আহমেদ চা-এ এক চুমুক দিয়ে বললেন,লিখিত কোনো প্রমাণ আছে নাকি?
রহমান মাথা চুলকে লজ্জায় হেসে বললেন,না, বিশ্বাস করেই দিয়েছিলাম।
উকিল আহমেদের চোখে তখন হালকা দুষ্টু হাসি।
উকিল:ঠিক আছে। তুমি কুদ্দুসকে একটা চিঠি পাঠাও। লিখবে, ‘আপনার কাছে আমার যে ৬০ হাজার টাকা পাওনা আছে, দয়া করে দ্রুত পরিশোধ করুন।’
রহমান চমকে উঠল। বাইরে তখন হাওয়া বইছে, গাছের পাতারা যেন ফিসফিস করে কিছু বলছে।
রহমান:কী বলেন! আমি তো ৬০ হাজার না, ৩০ হাজারই পাই। ও তো চিঠির জবাবে লিখবে ৩০ হাজার,
উকিল হেসে চেয়ার ঠেসে বসলেন।
উকিল:ব্যস! সেটাই তো চাই। তখন তোমার হাতে থাকবে ওর নিজের লেখা স্বীকারোক্তি। আর সেটাই হবে তোমার প্রমাণ।
রহমানের মুখে তখন প্রশান্তির হাসি। বাইরে সূর্যটা ঢলে পড়ছে, মনে হচ্ছে সমস্যাটাও একটু ঢলে পড়ল।
অন্ধ বিশ্বাসে টাকা দেওয়া যত সহজ, প্রমাণ ছাড়া তা ফেরত পাওয়া তত কঠিন। জীবনে বিশ্বাস রাখুন, তবে কাগজে-কলমে রাখলে মন্দ হয় না।

0 মন্তব্যসমূহ