অনৈতিক সম্পর্কের পরিণতি ভয়ংকর

 সবুজ নগর এমন একটা জায়গা, যেখানে বিকেলে চায়ের দোকানে রাজনীতি হয়, চুপেচাপে দুই একটা প্রেম হয়, আর মাঝরাতে স্ট্যাটাস আপডেট হয়।

এই শহরেই থাকে মাহির আর আয়েশা।

মাহির একটু গেমার টাইপ। মোবাইলে পাবজি খেলতে খেলতে সে এমনভাবে “কভার দাও! কভার দাও!” বলে চেঁচায়, যেন সত্যিই সীমান্ত রক্ষা করছে।

আয়েশা শান্ত মেয়ে। তবে শান্ত মানে নিরীহ না। সে স্ট্যাটাস দেয়, “যে বুঝবে না, তাকে বুঝিয়ে লাভ কী।”



এমন স্ট্যাটাসে মাহিরের বুক খালি খালি লাগে।

ওদের প্রেম শুরু হয়েছিল একদম কমেন্ট বক্সে।

মাহির লিখেছিল, “সবুজ রঙ আপনাকে খুব মানায়।”

আয়েশা রিপ্লাই এ বলেছিল ধন্যবাদ! কাল থেকে লাল পরব, দেখি তখন কী বলেন 😜

মাহির: লালও মানাবে নিশ্চিত।

আয়েশা: তাহলে আপনি রঙ বিশেষজ্ঞ নাকি ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ? 🚓😂

মাহির: শুধু সুন্দর জিনিস লক্ষ্য করি।

আয়েশা: তাই নাকি? তাহলে সাবধান… আমি কিন্তু রংধনুও পরতে পারি 🌈

এরপর ইনবক্স। তারপর কল। তারপর রাত জাগা গল্প।

একদিন আয়েশা বলল, “আমাকে প্রমিস করো, কখনও ছেড়ে যাবে না।”

মাহির গম্ভীর গলায় বলল, “আমি যদি যাই, আমার গেমের আইডি ডিলিট হয়ে যাক।”

এই ছিল তাদের ‘বড়’ প্রতিশ্রুতি।

একদিন তারা সিদ্ধান্ত নিল শহরের একটা ছোট হোটেলে দেখা করবে,এক সথে লাঞ্চ করবে। হোটেলের নাম “হোটেল নীল দরিয়া”। নাম শুনে মনে হয় সমুদ্র আছে, আসলে পাশেই ড্রেন

প্রথম দেখা। 


দুজনেই অস্বস্তিতে। মাহির বারবার চুল ঠিক করছে। আয়েশা বলছে, “এভাবে তাকিয়ো না, লোকে ভাববে আমরা সিনেমা করছি।”

তারা চা খেল, হাসল, আবার চুপ করল।

মাহির বলল, “বাস্তবে তুমি আরও সুন্দর।”

আয়েশা বলল, “বাস্তবে তুমি আরও বোকা।”

কিছু মুহূর্ত তারা নিজেদের মতো কাটাল।

মাহির বলল, “এই সময়টা শুধু আমাদের।”

আয়েশা বিশ্বাস করল।

শুরুতে সব ভালোই চলছিল।

ফেসবুকে দুজনের বন্ধুত্ব দেখে বন্ধুরা মজা করত।

কেউ লিখত, “সবুজ নগরের শাহজাহান-মুমতাজ।”

মাহির গর্ব করে রিপ্লাই দিত, “দোয়া করবেন।”

কিন্তু ধীরে ধীরে ঝগড়া বাড়ল।

মাহির অনলাইনে থাকত, কিন্তু আয়েশার মেসেজের জবাব দিত দেরিতে।

আয়েশা বলত, “কার সঙ্গে এত কথা?”

মাহির বলত, “তুমি বেশি সন্দেহ করো।”

একদিন তর্ক এমন জায়গায় গেল, যেখানে কথা আর কথা থাকে না, কাঁটা হয়ে যায়।

রাগের মাথায় মাহির একটা বড় ভুল করল।

তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি সে বন্ধুদের দেখাল। তারপর কেউ সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিল।

সে ভেবেছিল, “শিক্ষা দিলাম।”

কিন্তু সে বুঝল না, এটা  শিক্ষা না, এটা অপমান।

সকালে আয়েশার ফোনে একের পর এক কল।

কেউ সহানুভূতি দেখাচ্ছে, কেউ হাসছে, কেউ স্ক্রিনশট চাইছে।

আয়েশা আয়নায় নিজের মুখ দেখল।

মুখ ঠিক আছে।

কিন্তু বিশ্বাসটা ভেঙে গেছে।

কিছুদিন পর সবুজ নগরে একটা খবর ছড়িয়ে পড়ল।

20 বছরের এক মেয়ে চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শহরের চায়ের দোকান চুপ হয়ে গেল।

স্ট্যাটাসগুলোও যেন হঠাৎ নিঃশব্দ।

মাহির তখন বুঝল, ভাইরাল হওয়া মানেই জয় না।

সে আয়েশার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।

আয়েশার মা দরজা খুলে বললেন, “তুমি তো আমার মেয়ের বন্ধু ছিলে। বন্ধুরা কি এমন করে?”

মাহিরের গেমের আইডি তখনও ছিল।

কিন্তু তার ভেতরের মানুষটা যেন হেরে গেছে। 

আয়েশার পরিবার মামলা করেছে পুলিশ তদন্ত করছে হয়ত বিচার হবে শাস্তি হবে, কিন্তু যে চলে গেছে তাকে তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না 



ভালোবাসা মানে শুধু ছবি তোলা না, প্রমাণ রাখা না।

ভালোবাসা মানে বিশ্বাস রাখা।

সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধুত্ব দেখাতে পারে, কিন্তু দায়িত্ব শেখায় না।

একটা শেয়ার, একটা ক্লিক, একটা রাগের মুহূর্ত কখনও কখনও জীবনের চেয়ে বড় হয়ে যায়।

সবুজ নগর আবার একদিন ব্যস্ত হবে।

মানুষ আবার প্রেম করবে।

কিন্তু এই গল্পটা মনে রাখা দরকার। অনৈতিক সম্পর্কের পরিণতি ভয়ংকর। 

 সম্পর্ক ভাঙলে কষ্ট হয়,

কিন্তু সম্মান ভাঙলে মানুষ ভেঙে যায়।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

ঘুম গবেষক সুলেমান