লাভ লোকসানের জটিল হিসাব

 কোরবানির হাট থেকে ফেরার পথটা অদ্ভুত রকমের নীরব।

চাঁদ উঠেছে, গরুর গলায় বাঁধা ঘণ্টাটা টুংটাং করছে।

হঠাৎ ঝোপের ভেতর থেকে তিনজন বের হলো। চেহারা দেখে মনে হয় তারা পড়াশোনা খুব একটা এগোয়নি, তবে বাস্তব জীবনের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসে নিয়মিত।



ডাকাত বলল,

“এই ব্যাটা, কী কী আছে দে!”

গরু বিক্রেতা ভয় পেয়ে না, বরং একটু দুঃখী গলায় বলল,

“ভাই, আমার কাছে কিছুই নাই।”

ডাকাত অবাক।

“কিছু নাই কেন?”

গরু বিক্রেতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“গরুটা বিক্রি করতে পারি নাই ভাই।”

ডাকাতের মাথায় তখন চিন্তার ভাঁজ।

“বিক্রি করিস নাই কেন?”

“দাম কম বলেছে। তাই বিক্রি করি নাই।”

এই কথা শুনে ডাকাতদের ভেতর নৈতিক বোধ জেগে উঠল। একজন খুব রেগে গিয়ে বলল,

“এই ব্যাটা! গরুর দাম কম হলে আমরা টাকা কম পেতাম। তুই গরুটা বিক্রি করলিনা কেন?”

এই সময় গরুটাও যেন পরিস্থিতি বুঝে ফেলেছে। সে একবার ডাকাতের দিকে তাকায়, একবার মালিকের দিকে। তারপর এমন একটা ডাক দেয়, যেটা শুনলে মনে হয় সে বলতে চাইছে,

“আপনেগো ভেজাল শেষ করেন, আমার ডিনারের দেরি হয়ে যাচ্ছে”

ডাকাতরা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে।

একজন বলল,

“যা, গরু নিয়া বাড়ি যা। কিন্তু সামনে হাটে গেলে একটু দাম বাড়াইয়া বেইচা দিস।”

গরু বিক্রেতা মাথা নাড়িয়ে বলল,

“ভাই, চেষ্টা করবো।”

ডাকাতরা চলে গেল।

গরু বিক্রেতা বাড়ির পথে হাঁটতে হাঁটতে ভাবল,

এই দেশে ডাকাতরাও এখন বাজার বোঝে।

শুধু ক্রেতারাই বোঝে না।

গরুটা আবার টুংটাং শব্দ করে হাঁটে।

চাঁদটা আরও উজ্জ্বল লাগে।

সবাই যার যার লাভ-লোকসান নিয়ে ব্যস্ত।

গরুটা ছাড়া।

তার একটাই চিন্তা—আগামীকাল খাওয়ার সময় ঠিকমতো খড় পাওয়া যাবে তো?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

ঘুম গবেষক সুলেমান