থানার ভেতরটা ভ্যাপসা গরম। সিলিং ফ্যানটা গোঁ গোঁ শব্দে ঘুরছে, কিন্তু বাতাস দিচ্ছে না। ওসি সাহেব ভুরু কুঁচকে পিন্টুর দিকে তাকালেন। পিন্টু বসে আছে অপরাধীর ভঙ্গিতে, যদিও সে নিজেই অভিযোগকারী।
ওসি সাহেব গম্ভীর গলায় বললেন, "দেখুন পিন্টু সাহেব, আপনার ক্রেডিট কার্ডটা হারিয়েছে এক সপ্তাহ আগে। অথচ আপনি জিডি করতে এলেন আজ! এত দেরি কেন? বুদ্ধিমান মানুষ তো কার্ড হারানোর সঙ্গে সঙ্গে কাস্টমার কেয়ারে ফোন দেয়।"
পিন্টু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পকেট থেকে রুমাল বের করে কপাল মুছল। তারপর খুব নিচু স্বরে বলল, "স্যার, ইচ্ছা করেই দেইনি। কার্ডটা চুরি হওয়ার পর আমি কয়েক দিন ট্র্যাকিং করে দেখলাম, চোর ব্যাটা আমার কার্ড দিয়ে যা খরচ করছে, তা আমার স্ত্রীর খরচের তুলনায় অনেক কম। আমি মনে মনে ভাবলাম, কার্ডটা ওর কাছে থাকাই ভালো। এতে আমার কিছু সাশ্রয় হচ্ছে।"
ওসি সাহেব অবাক হয়ে চশমাটা নাকের ডগায় নামালেন। "বলেন কী! চোর আপনার উপকার করছিল?"
"জি স্যার। চোরটা ছিল মিতব্যয়ী। আমি ভাবলাম, লোকটা ভালো, ওকে একটু সাহায্য করি।"
ওসি সাহেব এবার খাতা টেনে নিলেন। "তাহলে আজ রিপোর্ট করতে এলেন কেন? দয়া মায়া কি সব শেষ হয়ে গেল?"
পিন্টু এবার প্রায় কেঁদে ফেলার মতো অবস্থা করে বলল, "দয়া মায়া ঠিকই আছে স্যার, কিন্তু বিপদ ঘটে গেছে। গত দুই দিনের খরচের মেসেজ দেখে আমার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার দশা। মনে হচ্ছে কার্ডটা এবার চোরের নিজের হাত থেকে তার বউয়ের হাতে চলে গেছে। গত দুই দিনে খরচের মাত্রা চারগুণ বেড়ে গেছে! এখন যদি ব্যবস্থা না নেই, তাহলে চোর আর আমি—দুজনকেই না খেয়ে মরতে হবে।"
ওসি সাহেব কলম থামিয়ে পিন্টুর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। তারপর বিড়বিড় করে বললেন, "হুম, সমস্যা গুরুতর।

0 মন্তব্যসমূহ