মেয়েটা কেমন জানি

 ঘরের দরজাটা কেচ কেচ শব্দ করে খুলল। শব্দটা খুব সাধারণ, কিন্তু সেই শব্দে ঘরের সবাই চমকে উঠল। সাত দিন ধরে যে দরজাটা বন্ধ ছিল, আজ সেটা আবার খুলেছে।



মেয়েটা ভেতরে ঢুকল। চোখে পানি নেই, মুখে অপরাধীর ছাপও না। যেন সে পাশের দোকান থেকে চানাচুর কিনে ফিরেছে।

বাবা সোফায় বসে ছিলেন। চোখ তুললেন না। কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর বললেন,

“তুই যেদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছিস, সেদিনই আমার কাছে মারা গেছিস। আমি ভুলে গেছি যে আমার কোনো মেয়ে আছে।”

মেয়েটা কিছু বলল না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।

মা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। গলায় কান্না জমে আছে, কিন্তু চোখে জল নেই।

“যাওয়ার আগে একবারও আমার কথা মনে পড়েনি তোর? মা বলে কি কিছুই মনে পড়ে না? যা… সুখে থাকিস।”

এই ‘সুখে থাকিস’ কথাটা শুনে ঘরের বাতাস ভারী হয়ে গেল।

দাদা এতক্ষণ চুপ ছিল। এবার মুখ খুলল।

“মা-বাবাকে কাঁদিয়ে কেউ কখনো সুখে থাকে না। তোকে বোন ভাবতেই ঘৃণা করছে।”

সবাই থেমে গেল। ঘরে তখন এমন নীরবতা, যেন বিদ্যুৎ চলে গেছে, কিন্তু কেউ জানে না মোমবাতি কোথায়।

মেয়েটা ধীরে ব্যাগটা মেঝেতে নামাল। একবার বাবার দিকে তাকাল, তারপর মায়ের দিকে। গলাটা একদম স্বাভাবিক।

“আমি আসলে তোমাদের কথা শুনতে আসিনি।”

মা চমকে তাকালেন। বাবা এবার চোখ তুললেন।

মেয়েটা বলল,

“আমি এসেছি আমার নোকিয়া মোবাইলের চার্জার নিতে। ফেলে গিয়েছিলাম।”

কেউ কিছু বলল না।

মেয়েটা ঘরের কোণে রাখা টেবিলের ড্রয়ার খুলে চার্জারটা বের করল। হাতে নিয়ে একটু দেখে নিল, যেন নিশ্চিত হচ্ছে এটা ঠিক তারই।

দরজার দিকে যেতে যেতে সে হালকা গলায় বলল,

“চার্জ শেষ হয়ে গেলে ফোন বন্ধ হয়ে যায়। তখন কাউকে কিছু বলাও যায় না।”

দরজাটা আবার বন্ধ হলো। আগের মতোই সাধারণ শব্দে।

বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। মা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন।ঘরের ভেতর আবার নীরবতা। তবে এবার সেটা ভারী না। একটু হাস্যকর, একটু বাস্তব দাদা মনে মনে ভাবল, এত বড় নাটকের শেষে চার্জারটা কীভাবে নায়ক হয়ে গেল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

ঘুম গবেষক সুলেমান