আমি যেমন, তেমনই

 

গ্রামের নাম কৃষ্ণনগর, গ্রামের শেষ মাথায় একটা বটগাছ। সেই গাছে থাকত কাক কুটুস। বয়সে মাঝারি, বুদ্ধিতে নিজের ধারণায় জিনিয়াস। কুটুসের বিশ্বাস ছিল, দুনিয়ার সব সমস্যা সে দু’মিনিট চিন্তা করলেই সমাধান হয়ে যায়। না হলে তিন মিনিট।



 একদিন কুটুস দেখল, গ্রামের লোকজন নতুন মোবাইল কিনে খুব ব্যস্ত। কেউ কথা বলে, কেউ সেলফি তোলে, কেউ আবার ফোনে কথা বলতে বলতে গরু খুঁজে বেড়ায়। কুটুস ভাবল,

মানুষ যদি এত স্মার্ট হয়, আমি কেন হব না?”

 সে পাশের উঠান থেকে একটা চকচকে চামচ চুরি করে এনে ঠোঁটে ধরে আয়নার সামনে দাঁড়াল। নিজের প্রতিবিম্ব দেখে বলল,

এইটা তো একেবারে স্মার্টফোন লুক!”

 তারপর সে উড়ে উড়ে সবার সামনে গিয়ে কা কা করতে লাগল। কেউ তাকায় না। এক বাচ্চা হেসে বলল,

আব্বা, এই বেক্কল কাকটা চামচ নিয়ে নাটক করছে কেন?”

 কুটুস খুব কষ্ট পেল,লজ্জায় তার মুক্ত আরো লাল  হয়ে গেলো । চামচটা ফেলে দিয়ে গাছের ডালে বসে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। দীর্ঘশ্বাসটা এত লম্বা ছিল যে মাঝখানে দুইটা মশা বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলো তার উড়ে গিয়ে দূরে ধপাস করে পড়ল ।

 ঠিক তখন পাশের ডাল থেকে বুড়ো কাক বলল,

শোন কুটুস মিয়া , ধার করা জিনিসে বাহাদুরি করা যায়, কিন্তু সম্মান বাড়ে না।”

 কুটুস কিছু বলল না। শুধু ভাবল, আজকে যদি নিজে ভালো কাক হতে পারতাম, তাইলেই চলত।

 সেদিন থেকে সে আর চামচ ধরেনি। সকালে ডাক দেয়, সন্ধ্যায় ডাক দেয়, নিজের কাজটা ঠিকঠাক করে। গ্রামের মানুষও একসময় বলল,

এই কাকটার ডাক শুনলে সকালটা ঠিকঠাক শুরু হয়।”

 

লার্নিং:

অন্যের মতো হতে গিয়ে হাস্যকর হওয়ার চেয়ে, নিজের মতো হয়ে থাকা অনেক ভালো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

ঘুম গবেষক সুলেমান