ডাকাডাকি বন্ধ। এখন থেকে কা কা না বলে, হ্যালো বলব।

 


তিতাস নদীর পারে গ্রামের শেষ মাথায় যে কালের সাক্ষী  বটগাছ তাতে   একটা  কাক থাকত। নাম তার কুটুমকাক। কেন কুটুম? কারণ কারও বাড়িতে রান্না হলেই সে আত্মীয়ের মতো হাজির।

কুটুমকাকের একটা বদভ্যাস ছিল। সে নিজেকে পাখিজগতের ভিআইপি মনে করত। একদিন দেখল, পাশের বাড়ির কর্তা  নতুন সানগ্লাস পরে ঘুরছে। গরম নেই, রোদ নেই, তবু সানগ্লাস আছে।

কাকের মাথায় তখনই বাতি জ্বলে উঠল। যদিও কাকের মাথায় আসলে বাতি নেই, তবু ভাবের বাতি তো জ্বলতেই পারে।

সে আচমকা ছোঁ মেরে সানগ্লাসটা ছিনিয়ে নিল । এ সানগ্লাসটা ঠোঁটে ঝুলিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,

এবার আমাকে কাক বললে কেস করে দেব!”

তারপর সে উড়ে গিয়ে বটগাছের মিটিং ডাকল। সব কাক জড়ো হয়েছে। কুটুমকাক গম্ভীর গলায় বলল,

বন্ধুগণ, আজ থেকে আমরা আধুনিক হব। ডাকাডাকি বন্ধ। এখন থেকে কা কা না বলে হ্যালো বলব।”

 

এক কাক হাত তুলে বলল,

হ্যালো বললে খাবার  মিলবে?”

 

কুটুম একটু থতমত খেল। বলল,

তা মিলবে কিনা জানি না, কিন্তু স্টাইল মিলবে।”

এ কথা শুনে সব কাক একসাথে কা কা করে হেসে উঠল। হাসিটা এমন ছিল, যেন আকাশে মেঘ ফেটে পড়েছে।

ঠিক তখন পাশের গাছের বুড়ো শালিক বলল,

বাবাজি, চশমা পরলেই সাহেব  হয় না। আর মোচ বড় হলেই  চৌকিদার হয় না।”

কুটুমকাক চশমাটা খুলে দেখল,খালি চোখে বাহিরটা আরো সুন্দর ঝকঝকে পরিষ্কার লাগছে। সে চুপচাপ ফ্রেমটা ফেলে দিল।

তারপর থেকে সে আগের মতোই কা কা করে ডাকতে লাগল।

**লার্নিং **

নিজের স্বভাব ঠিক থাকলে স্টাইল নিজে থেকেই আসে।**

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

ঘুম গবেষক সুলেমান