বিকেলের রোদ তখন মাঠের ওপর একটু কাঁচা হলুদের মতো পড়ে আছে। বাতাসে ধানের গন্ধ। সেই মাঠ দিয়ে হাঁটছে দুই ব্যাঙ বন্ধু।
একজনের নাম ফটিক, আরেকজন মতিন।
ফটিক খুব দার্শনিক টাইপ। হাঁটতে হাঁটতে
বলছে,
“জীবন আসলে একটা পুকুর। কখনো জল বেশি,
কখনো কম।”
মতিন বলল,
“পুকুর হোক আর ডোবা হোক, আগে দেখ সামনে রাস্তা আছে কিনা!”
কথা শেষ হওয়ার আগেই—ধুপ!
দুজন একসাথে গিয়ে পড়ল একটা গভীর গর্তে।
গর্তটা এমন গভীর যে উপরে তাকালে
আকাশটাকে দূরের কোনো আত্মীয়ের মতো লাগে—চেনা চেনা, কিন্তু কাছে আসে না।
উপরে অন্য ব্যাঙেরা জড়ো হলো। সাহায্য
করবে ভাবছেন? না।
একজন গম্ভীর গলায় বলল,
“এই গর্ত থেকে কেউ কোনোদিন ওঠেনি।
ইতিহাস আছে।”
আরেকজন বলল,
“তোরা চেষ্টা কইরা লাভ নাই। বসে পড়।
ভাগ্য মেনে নে।”
ফটিক কথাগুলো শুনে হাঁ করে আকাশের দিকে
তাকাল।
তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলল, দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “পুকুরের স্বপ্ন
দেখেছিলাম, কিন্তু জীবনও মাঝে মাঝে ড্রেনের মতো
নীরব হাসি দেয়।”
সে আর লাফাল না। বসে রইল।
কিন্তু মতিন থামল না।
সে লাফাচ্ছে। আবার লাফাচ্ছে।
উপরে থেকে কেউ বলছে, “হবে না!”
সে আরো জোরে লাফাচ্ছে।
একসময় টপ করে উঠে এল গর্তের বাইরে।
সব ব্যাঙ অবাক।
“তুই পারলি কীভাবে?”
মতিন একটু হেসে বলল,
“আসলে আমি একটু কম শুনি। তোমরা এত জোরে
চিৎকার করছিলে, ভাবলাম নিশ্চয় বলছ—‘চালাইয়া যা!
আরেকটু!’ তাই থামিনি।”
উপরে দাঁড়ানো ব্যাঙগুলো চুপ করে আছে।
মুখের ভাব এমন, যেন উপদেশ দিতে এসে নিজেরাই পরীক্ষায় ফেল করেছে।
**শিক্ষা?**
সব কথা শোনা দরকার হয় না।
কিছু কথা কানে তুলো গুঁজে ফেলাই ভালো।
আর যদি কিছু বলতেই হয়, এমন কথা বলি যাতে কারও লাফ দেওয়ার শক্তি বাড়ে, কমে না।

0 মন্তব্যসমূহ